ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে আলোচিত এ ঘটনায় করা মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মিলন (৫০) এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন মণ্ডল (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ‘রঙতরঙ্গ’ নামে একটি সংগঠনের আয়োজিত ফুটবল খেলা দেখতে যান নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়বাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে হাতকড়া পরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে থানায় নেওয়ার সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের কাছে পুলিশের ওপর হামলা চালায় একদল ব্যক্তি।
এ সময় পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ রিয়াজুলকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। পাশাপাশি পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন উপজেলার বৈরাটি গ্রামের মো. ওয়াসীম মিয়া (২৬) এবং সরিষা গাংপাড় এলাকার মো. এমদাদুল হক (৪৫)। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশি হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেতাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন করে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার অপর দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।