“আইন সকলের জন্য সমান” কথাটার বাস্তবিক রূপায়ণে সর্বাধিক ভূমিকা বার্তায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর, কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় পুলিশ জনগণের বন্ধু কথাটার মূল্যায়ণ প্রায় নেই বললেই চলে, বরং অনেক ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসীদের আচরণ সদৃশ্য কথিত আছে অনেক রাজনৈতিক সরকারের সময় হঠাৎ করেই নাকি উপর মহলের অর্ডার এসে যায় গোষ্ঠী বা সংখ্যা উল্লেখপূর্বক গ্রেফতারের আর তার দ্বায়িত্বরত অফিসারের চাকুরি বাঁচাতে যত্রতত্র থেকে অহেতুক বেশিরভাগ নিরাপরাধ জনগণকে গ্রেফতার দেখিয়ে জানা-অজানা অগনিত মামলায় জর্জরিত করে। বন্ধুর দাবিদার বাহিনী প্রায়ই শত্রুর ভূমিকায় অবর্তীন হন। আর তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষবস্তু হয়ে যায় নিরাপরাধ গরীব, প্রভাব প্রতিপত্তিহীন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অথবা নিরীহ মানুষ। এছাড়া কয়েক বছর যাবৎ পেন্ডিং মামলা নামক এক চেরাগ আবিষ্কার হয়েছে যা দিয়ে যে কোন সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পুলিশ ব্যবহৃত হয়ে থাকে অথবা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও বাদী ঘটিত ঘটনা উপেক্ষা করে ব্যক্তি স্বার্থ বা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মামলা এজাহারে নিরপরাধ ব্যাক্তিকে সম্পৃক্ত করে থাকে। যার সুষ্ঠু তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের। এসব ক্ষেত্রেও সুষ্ঠু তদন্ত অনেকক্ষেত্রে আকস্মিক কারণে ব্যহত হয় আর আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সূত্রতার কারণে যুগের পর যুগ ভুগতে থাকে মানুষ। ১৫ কোটি মানুষের দেশে ১৫জন টপটেরর ধরতে ১,০০,০০০ পুলিশের ব্যস্ততার প্রয়োজন নেই, ১৫ জনেই যথেষ্ট। সকল ক্ষেত্রে গোয়েন্দাগিরি বৃদ্ধির মাধ্যেমে কাজ করতে হবে। যত্রতত্র পুলিশ ডিউটির প্রয়োজন নেই। এবং প্রাথমিক তদন্ত ব্যবস্থা প্রতিটি থানায় স্থাপন করতে পারলে আসামী অতি সহজেই আত্মত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং অহেতুক হয়রানী থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। এখনই সময় সকল জঞ্জাল উপেক্ষা করে পুলিশকে জনগণের বন্ধু হওয়ার এবং তা হতে হবেই। দেশের আইন-শৃঙ্খলাকে উন্নত করতে, নিরাপদ জীবনযাপনে মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে যা অতীব প্রয়োজন। এজন্য দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইন শৃঙ্খলার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজন পুলিশ বাহীনিতে, ক) আধুনিকায়ন, খ) কাঠামোগত পরিবর্তন, এবং গ) অস্ত্র ও আইন প্রয়োগিক কৌশল নির্ধারণ।
ক) আধনিকায়নঃ উন্নত দেশের পলিশ বাহিনীর
করা। ভাষাগত ভাবে মার্জিত করে তোলা, আইন ও মনস্তাত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষন সহ সময় উপযোগী আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। অপ্রয়োজনে অস্ত্র প্রয়োগ বা হুমকি প্রদান থেকে বিরত থেকে সহজ সরল প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবেলার ব্যবস্থা করে গড়ে তোলা। সর্বপরি যে মহলগুলোর কারণে পুলিশকে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও অসৎ উপায় বা অসাদাচারণ বা ন্যায়সঙ্গত নয় এমন কিছু করতে বাধ্য হতে হয় তাদের আওতা মুক্ত করে পুরো পুলিশ বাহীনিকে স্ব-স্ব কর্মের আইনী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, আইনের সঠিক প্রয়োগে অভ্যস্থ বা বাধ্য করতে হবে।
পুলিশকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম প্রয়োজনীয় সামাজিক এবং পারিবারিক জীবনযাপনের সকল উপকরণসহ সুশিক্ষা এবং সুস্বাস্থ্যের উপযোগী সকল ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
খ) কাঠামোগত পরিবর্তনঃ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বি.সি.এস ক্যাডার পদ্ধতি বা কোন প্রকার স্পেশাল নিয়োগ বা পদোন্নতি বাতিল করে সিপাহী পর্যায় থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নুন্যতম ডিগ্রি পাস, সুদর্শন, অধিক উচ্চতা সম্পন্ন সুঠাম দেহের অধিকারীদের আগ্রাধিকার নিয়োগদানের প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যেমে আইন বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বাৎসরিক কর্মকান্ড এবং পদোন্নতি পরিষ্কার মাধ্যেমে পঞ্চাশ বৎসর বয়সসীমা নির্ধারণ করলে পুলিশের সিপাহী স্তর থেকে মানুষের শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ বন্ধুসুলভ আচরণ আশা করতে পারবে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীতে এস বি, ডি বি, সি আই ডি এবং সাধারণ কর্মকান্ডের ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক পৃথকীকরণের মাধ্যেমে একজনের অধিনস্থ না রেখে স্ব-স্ব ডিপার্টমেন্টের চীফ অব স্টাফ নিয়োগ করলে অভিযোগ তদন্ত এবং অভিযোগের ধরণ-অনুসারে স্ব-স্ব বাহিনীর উপর ন্যাস্ত করলে অধিক সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। পৃথক তথ্য সেল গঠন করে দেশের জনগণের তথ্য সংগ্রহ করলে তদন্তে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং তদন্তভার পৃথক পৃথক ডিপাটমেন্টে থাকলে সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসবে এবং দূর্নীতির সুযোগ কমবে। এছাড়া সমাজিক নিরাপত্তার জন্য “কমিউনিটি পুলিশ” ব্যবস্থা চালু করে সর্বপ্রথম শহরাঞ্চলে বসবাসরত নাগরিকদের নিকট থেকে নিরাপত্তা ট্যাক্স সংগ্রহের মাধ্যেমে অতি সহজেই সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি সম্ভব। কারণ শহরের যে নাগরিক তার বসবাস ব্যয় সহ অন্যান্য ব্যয় অধিক পরিমাণে করে থাকে, নিরাপত্তার জন্য মাথাপিছু একটি অর্থের বরাদ্দ ব্যবস্থা করলে নাগরিক জীবনযাপন নিশ্চিত ও নিরাপদ হবে, কর্মের পরিধি বাড়বে এবং মানুষ অহেতুক মানুষিক অশান্তি থেকে পরিত্রান পাবে। এভাবে গুরত্ব অনুসারে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা করলে পলিশের ডিউটি সাফকাজনক এবং প্রয়োজন।
দিকে নজর দিতে হবে তাতে করে বাড়তি বেতনে নতুন কর্মসংস্থান এবং বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।
গ) অস্ত্র ও আইন প্রয়োগিক কৌশল নির্ধারণঃ সকল
শ্রেণীর পুলিশের নিকট বুলেট আর্মসের প্রয়োজন বিবেচনা করতে হবে। কারণ পুলিশের কাজ কাউকে বুলেটবিদ্ধ বা হত্যা করা নয়। আইনের কাছে সোর্পদ করা। এক্ষেত্রে যেমন বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল, রাবার বুলেট বা জলকামান ব্যবহার করা হয়, তেমনি সাধারণ ডিউটিরত পুলিশ অচেতন করার সিরিঞ্চ গান ব্যবহার করলে তার নিজের ও অস্ত্রের নিরাপত্তা বিধান এবং কর্তব্য পালনে সহায়ক হবে। সাধারণ নাগরিক নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত হবে। অভিযোগ দায়েরের পর আসামীদের অহেতুক হয়রানী বন্ধ করে সন্দেহজনক গ্রেফতার বন্ধ করে সন্দেহ ভাজনকে আদালতে উপিস্থিতির জন্য অবগত করা এবং কোন আসামী আদালতে উপস্থিতির জন্য অবগত করার পরেও কোন আসামী আদালতে উপস্থিত না হলে আইনগত ভাবে অনুপস্থিতির জন্য শান্তির বিধান করা। পুলিশ কর্তৃক আসামীদের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করে আধুনিক প্রক্রিয়া এবং মনস্তাত্তিক ভাবে তথ্য বের করার দিকে গুরত্ব দিতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি অভিযোগ শুরুতে তদন্তের মাধ্যেমে পর্যালোচনা করে অবস্থাভেদে গ্রেফতার জরুরী হলে সেক্ষেত্রে বিবেচনা করা উচিৎ। আইনী দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে মানুষের আইনের উপর আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব ও পুলিশের উপর বার্তায়। জান-মাল রক্ষার্থে বর্তমানে অস্ত্র প্রদানের লাইসেন্স এর যে বিধান রয়েছে তা বাতিল করে গাণম্যান নিয়োগ পদ্ধতি চালু করতে হবে। ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী সেক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারকে মাসিক নগদ অর্থ প্রদান করবে। দেশের অনুমোদিত সকল বেসরকারী অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। শুধুমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান এ কাজে জড়িত থাকবে। পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সেক্টর ভিত্তি নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে হবে যেমন-নিরাপত্তা সেক্টর, কৃষি সেক্টর, চিকিৎসা সেক্টর, শিক্ষা সেক্টর, প্রকৌশলী সেক্টর সহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে পারদর্শী করে তুলতে হবে। তাহলে দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে পুলিশকে ব্যবহার করে জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে। বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ভবন, এরিয়া, সড়ক, মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা সহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি মাধ্যেমে অপরাধ সনাক্ত করণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি প্রয়োজন কাঠামোগত এবং প্রতিষ্ঠানিক নিয়মতান্ত্রিকতা যা পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যদের কাজে স্বাচ্ছন্দ যোগাবে।