বর্তমান ডিজিটাল যুগে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কমিউনিটি গঠনে এবং নিজেকে প্রকাশ করার একটি মূল কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে টিকটক এর কমিউনিটি তৈরির জন্য কাজ করছে ভিন্নভাবে। টিকটকের হ্যাশট্যাগ ক্যাম্পেইনগুলো এতে অন্যতম ভূমিকা রাখছে।
সাধারণত ভাইরাল ট্রেন্ড কিংবা বিনোদনের জন্য হ্যাশট্যাগের ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু টিকটকের ক্ষেত্রে এমন হাশট্যাগগুলো আরও বেশি প্রভাব রাখে। নতুন সব হাশট্যাগ দিয়ে টিকটক ইউজাররা নিয়মিত তাদের কনটেন্ট তুলে ধরছে। ফলে একই বিষয়বস্তুতে আগ্রহী কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ভিউয়াররা পরস্পরের সাথে যুক্ত হতে পারছে। একই চিন্তাধারার মানুষরা এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে একত্র হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে যার মধ্য দিয়ে টিকটকের কমিউনিটিও আরও উন্নত হচ্ছে।
কনটেন্ট অনুযায়ী হ্যাশট্যাগ
টিকটকের হ্যাশট্যাগগুলো কনটেন্ট-ক্যাটাগরি তৈরি করার একটি ফিচার মনে হলেও বাস্তবে এটি তার চেয়েও বেশি কার্যকরী। একটি হ্যাশট্যাগে ক্লিক করার মাধ্যমে, ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পছন্দের বিষয়বস্তুর কনটেন্ট পেয়ে যায়। মিউজিক, এডুকেশন, কুকিং, ফিটনেস– এমন বহু বিষয়বস্তুর শব্দ দিয়ে তৈরি হচ্ছে হ্যাশট্যাগ। উদাহরণস্বরূপ, #BookTok, #FitTok, এবং #ArtTikTok এর মতো জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ দিয়ে টিকটক ব্যবহারকারীরা তাদের কনটেন্ট শেয়ার করে যাচ্ছে।
টিকটকের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এর মাধ্যমে যে কেউ সহজে কনটেন্ট তৈরি করতে পারে। হ্যাশট্যাগের সুবিধা থাকায় নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কেবল এক ক্লিকেই খুঁজে পাচ্ছে শত শত ক্রিয়েটরদের। যেখান থেকে তারা কনটেন্ট তৈরির আইডিয়া শিখতে পারছে, এমনকি একে অপরের সাথে মিলে কনটেন্ট তৈরি করারও সুযোগ পাচ্ছে।
ভিন্ন কমিউনিটি গঠন
বিগত কয়েক বছর ধরে, টিকটক বেশ কয়েকটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে যেখানে একত্র হতে দেখা গেছে বিভিন্ন কমিউনিটিকে। টিকটকের গ্লোবাল কমিউনিটির ক্ষেত্রে এর সবচেয়ে বড় একটি উদাহরণ হল #BlackLivesMatter আন্দোলন। সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য এই হ্যাশট্যাগটি কেবল একটি স্লোগানই নয়, শিক্ষা, সচেতনতা এবং সংহতিকে তুলে ধরে।
টিকটকের একটি উল্লেখযোগ্য ক্যাম্পেইন হলো #LearnOnTikTok যেটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের শিক্ষামূলক বিষয়বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছেও এটি সমানভাবে জনপ্রিয়। নতুন ভাষা শেখার টিপস থেকে শুরু করে জটিল কোন বিষয়ের টিউটোরিয়াল এই হ্যাশট্যাগে পাওয়া যায়। বিশেষ করে শিক্ষাবিদ, এবং শিক্ষার্থীরা এই হ্যাশট্যাগটি বেশি ব্যবহার করছে।
প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য টিকটকের #TikTokResumes ক্যাম্পেইনটিও প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিয়েছে। সংক্ষিপ্ত, এবং ক্রিয়েটিভ সিভি ভিডিও তৈরির করতে, এবং বিভিন্ন উপায়ে নিয়োগকর্তাদের সাথে চাকরিপ্রার্থীদের যুক্ত করতে সহায়ক এই ক্যাম্পেইন।
প্ল্যাটফর্ম ইউজারদের প্রাধান্য
কনটেন্ট মডারেশনের পদ্ধতি এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী বা কমিউনিটির জন্য ক্যাম্পেইন নিয়ে কাজ করছে টিকটক যেটি ইতিবাচকতা এবং অন্তর্ভুক্তির উপর প্ল্যাটফর্মটির গুরুত্ব তুলে ধরে। এছাড়া, প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে #SpreadPositivity এবং #Kindness-এর মতো হ্যাশট্যাগগুলো ভূমিকা রাখছে। টিকটক সৃজনশীলতা এবং আত্মপ্রকাশের একটি স্থান হলেও এটিকে এমন একটি কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং গুরুত্ব বজায় থাকে। ব্যবহারকারীদের আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট তুলে ধরতে টিকটকের অ্যালগরিদম ডিজাইন করা হয়। একইসাথে নতুন ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির সাথেও ব্যবহারকারীরা সম্পৃক্ত হতে পারে। ফলে, টিকটক ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহলী মনোভাব এবং সৃজনশীলতা গড়ে উঠে। যা তাদের নতুন কোনো আইডিয়া বুঝতে বা খুঁজতে উৎসাহিত করে।
হ্যাশট্যাগের মতো উদ্ভাবনী ফিচার টিকটকে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা যেখানে সকল ক্যাটাগরির কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তুলে ধরছে নানান বিষয়বস্তু এবং নতুন ভাবনা। পছন্দের কোন ট্রেন্ড বা বিশেষ কোন ক্যাটাগরির কনটেন্ট–যেটাই হোক না কেন, টিকটক এর ব্যবহারকারীদের সেখানে একত্র করতে সক্ষম হচ্ছে। জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে, কমিউনিটির প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে টিকটক প্রতিজ্ঞাবব্ধ হচ্ছে যেটি এই প্ল্যাটফর্মটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।